রাহাতের জীবনটা এক রাতেই বদলে গিয়েছিল।
সেই রাতে সে তার স্ত্রীকে অন্য একজনের সাথে দেখে পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। চিৎকার, কান্না, অভিযোগ—সবকিছু একসাথে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছিল দুটো ছোট্ট প্রাণ। রিয়া আর সিয়াম
পরের কয়েকদিন ঘরে শুধু নীরবতা। রাহাত কথা বলত না। তার স্ত্রী নাফিসা মেঝেতে বসে কাঁদত। আর দুই শিশু দরজার কোণে চুপ করে বসে থাকত। তারা বুঝতে পারছিল না কেন তাদের বাবা-মা হঠাৎ এমন হয়ে গেল।
রিয়া রাতে ঘুমাতে পারত না। সে প্রায়ই জেগে উঠে চিৎকার করে কাঁদত, “আম্মু তুমি চলে যাবে না তো?” সিয়াম আরো ছোট। সে শুধু তার খেলনাগুলো নিয়ে একা একা বসে থাকত। তার চোখে সেই আগের হাসি আর ছিল না।
একদিন রাতে রিয়া তার বাবার কোলে মাথা রেখে ফিসফিস করে বললো, “আব্বু… তুমি যদি আম্মুকে ক্ষমা না করো, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? আমি তোমাদের দুজনকেই ভালোবাসি। প্লিজ আব্বু… আমাদের জন্য একটা সুযোগ দাও।”
সেই কথাটা রাহাতের বুকে ছুরির মতো বিঁধল।
সে সারারাত জেগে ভাবল। নিজের রাগ, অপমান, বিশ্বাসঘাতকতা—সবকিছুর সাথে লড়াই করল। কিন্তু প্রতিবার যখন সে রিয়া আর সিয়ামের মুখ মনে করল, তার রাগ কমে আসতে লাগল। সে বুঝতে পারল—এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে তার সন্তানদের।
তিন মাস পর।
রাহাত আর নাফিসা একসাথে কাউন্সেলিং-এ গিয়েছিল। নাফিসা তার ভুল স্বীকার করেছিল। সে বলেছিল, “আমি একা হয়ে গিয়েছিলাম। তুমি সবসময় অফিসে। আমার ভুল হয়েছে। কিন্তু আমি তোমাকে আর বাচ্চাদের হারাতে চাই না।”
রাহাত ক্ষমা করেছিল। সহজ ছিল না। অনেক রাত কেঁদেছে, অনেক দিন রাগ করেছে। কিন্তু সে বুঝেছিল—ভাঙা সংসার জোড়া লাগানোর চেয়ে নতুন করে গড়া অনেক বেশি কঠিন, কিন্তু সন্তানদের জন্য সম্ভব।
আজ রিয়া আর সিয়াম আবার হাসছে। তারা এখনো কখনো ভয় পায়, কিন্তু বাবা-মা দুজনেই তাদের পাশে আছে। রাহাত এখন অফিসের পর তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে। নাফিসা প্রতিদিন চেষ্টা করে সংসারটাকে আবার সুন্দর করে তুলতে।
পরকীয়া শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভাঙে না। এটা দুটো নিষ্পাপ শিশুর সারা জীবনের নিরাপত্তা, বিশ্বাস আর ভালোবাসার ধারণা নষ্ট করে দেয়।
পরকীয়া কখনো শুধু দুজনের ব্যাপার নয়। এর সবচেয়ে নির্মম শিকার হয় সন্তানরা। যখন বাবা-মা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন, শিশুরা নিজেদেরকে দোষী মনে করে। তারা ভয়ে, অনিশ্চয়তায় আর নিরাপত্তাহীনতায় বড় হয়। ভালোবাসা মানে শুধু নিজের সুখ নয়, সন্তানদের মানসিক শান্তিও। সংসার ভাঙার আগে একবার ভাবুন—আপনার সিদ্ধান্তের দাম কে দিবে? যদি সত্যিই ভুল হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষমা করার সাহস আর সংসার বাঁচানোর চেষ্টা করুন। কারণ ক্ষমা করলে শুধু সম্পর্ক বাঁচে না, দুটো শিশুর ভবিষ্যৎও বাঁচে
চিন্তা করুন: আপনার সন্তান যদি আজ আপনার জায়গায় থাকত, তাহলে সে কী চাইত? একটা ভাঙা সংসার, নাকি দুজন অসম্পূর্ণ মানুষের চেষ্টা করে একসাথে থাকা?
Disclaimer: এই গল্পটি শুধুমাত্র বিনোদন ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। বাস্তব জীবনের কোনো ব্যক্তি, ঘটনা বা স্থানের সাথে এর কোনো মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Post a Comment